ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের পাশে সুবিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে দাঁড়িয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুটের এই ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করছেন প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশস্ত ও খোলামেলা ভবনের সব তলাতে রয়েছে চলমান সিঁড়ি ও উন্নত লিফট ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষ বলছে, গরিব শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সাত বছরে সর্বাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন তারা।

দেশের অন্যতম বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান। একাধারে নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়, ইংল্যান্ডের ব্রাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি অর্জনের পর ড. মকবুল আহমেদ খান ১৯৭৬ সালে মস্কো টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৬ বছর বিশ্বব্যাংকের টেক্সটাইল অ্যাডভাইজার হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কাজ করেন তিনি। বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে নিয়ে গেছেন। উচ্চশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে তিনি এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ২০১২ সালে গড়ে তোলেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসহ  নানা দিক নিয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ সাইফ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ভাবনার পেছনের গল্পটা বলুন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ধারণাটা আমার অনেক আগে থেকে মাথায় এসেছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষাব্রতী মানুষ। শিক্ষাপ্রচারে নিবেদিতপ্রাণ। আমার শিক্ষকতার জীবন শুরু হয়েছে বিদেশে; ইংল্যান্ড, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি দেশে। আমার লেখাপড়া, নেশা ও পেশা টেক্সটাইলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্লানিং এবং এই বিষয়েই আমি পিএইচডি করি। ১৯৮৪-৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের ওপর থেকে ‘ডিউটি-ফ্রি এক্সেস’-এর সুবিধা প্রত্যাহার করে। ফলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প চরম সংকটের সম্মুখীন হয়। এর কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ৫৪টি টেক্সটাইল মিলের পুনর্বাসনের জন্য Textile Industry Rehabilitation Project (TIRP) প্রকল্পে ২.০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার চুক্তি করে। উদ্দেশ্য ছিল এসব পুনর্বাসিত টেক্সটাইল মিলে উৎপাদিত উন্নত বস্ত্র দেশের ক্রমসম্প্রসারণশীল রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে সরবরাহ করে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি। ঠিক এর পরপরই বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল পণ্যের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের ওপর মরণ-কামড়ের মতো আঘাত হানে। বিশ্বব্যাংকও তার পরিকল্পিত পুনর্বাসন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় পড়ে যায়।  ঠিক এই সময় বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প তথা টেক্সটাইল শিল্পকে সংকটমুক্ত করার জন্য বিশ্বব্যাংক আমাকে টেক্সটাইল অ্যাডভাইজর হিসাবে নিয়োগ দেয়। ১৯৮৫ সালের জুন মাসে আমি বিশ্বব্যাংকে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে সময়োপযোগী নীতিমালা ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি। ১৯৮৪-৮৫ সালের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার থেকে  ২০০০ সালে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করায় আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। এই কাজটা করতে করতে আমার মনে হতে থাকে আমি তো একজন শিক্ষক। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রচারেও আমার কিছু করা দরকার। আমার দেশের মোট জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ গ্রামে শিক্ষিত হচ্ছে, কিন্তু স্কুল-কলেজের পর আর বেশিদূর এগোতে পারছে না।