১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে এক বিবৃতিতে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মকবুল আহমেদ খান বলেন, ‘১৯৭২সালের এপ্রিলে আমরা গোপালগঞ্জ মুজিব বাহিনীর একদল মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করি। গোপালগঞ্জ-খুলনা রাস্তাটা তখনও হয়নি। নৌপথে চলাচল করতে হতো। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম খুলনা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা সড়ক নির্মাণের। তখন তিনি বলেছিলেন আমিতো শুধু গোপালগঞ্জের প্রধানমন্ত্রী না সারা দেশের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমরা বুঝেছিলাম আসলে তিনি একটি বিশেষ অঞ্চলের ছিলেন না, তিনি ছিলেন সারা দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত এবং অবিসংবাদিত নেতা’।
অধ্যাপক মকবুল আহমেদ খান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের স্বাধীনতার প্রতীক এবং মুক্তির দূত। মানুষের প্রতি তাঁর অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে হয়ে উঠেছিলেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি।
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক মকবুল আহমেদ খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ সীমাবদ্ধ হবার আদর্শ নয়, সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার আদর্শ। তোমরা তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হও।’
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের এই মহানায়ক ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকালে ‘খোকা’ নামে পরিচিত সেই শিশুটি পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। বঙ্গবন্ধু কিশোর বয়সেই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবার কারাবরণ করেন। ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে পরিণত হন।
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে যখন তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত করছিলেন, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে সপরিবারে নিহত হন।